Published On: Mon, Jul 30th, 2012

সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমযান

মুহম্মদ আলতাফ হোসেন:
মুত্তাকী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে প্রতি বছরই সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমযান আসে আমাদের দুয়ারে। সিয়ামের শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। ফার্সী ভাষায় এটাকে রোজা বলা হয়। রোজা একটি ফরজ ইবাদাত। দ্বিতীয় হিজরীতে রোজা ফরজ করা হয়েছে। রোজা ফরজ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের উপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার (আল-বাকারাহ : ১৮৩)এ
রমযান মাসের পরিচয়ে আল্লাহ বলেন, রমযান হলো সেই মাস যে মাসে মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও সুস্পষ্ট পথ নির্দেশক এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ণয়কারী কুরআন নাযিল করা হয়েছিল। । কাজেই তোমাদের মধ্যে যারাই এ মাস পাবে তারা যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে। (আল-বাকারাহ : ১৮৫)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি : (১) এ মর্মে সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর সত্যিকার কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, (২) সালাত কায়েম করা, (৩) যাকাত দেয়া, (৪) রমজান মাসের সিয়াম পালন করা এবং (৫) সক্ষম ব্যক্তির হজ্ব আদায় করা। (বুখারী ও মুসলিম)
রমজান চান্দ্রবর্ষের একটি অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসের ফযিলত অপরিসীম। রমজান হল কুরআন নাযিলের মাস। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘‘রমযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’’ (আল-বাকারা : ১৮৫) সিয়াম যেমন এ মাসে, কুরআনও নাযিল হয়েছে এ মাসেই। ইতিপূর্বেকার তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিলসহ যাবতীয় আসমানী কিতাবও এই মাহে রমজানেই নাযিল হয়েছিল।
এ মাসেই জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন শোনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে তেলাওয়াত শুনতেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের শেষ রমযানে পূর্ণ কুরআন দু’বার খতম করেছেন (মুসলিম)। এ মাসের সিয়াম পালন জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম। নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনলো, সালাত কায়েম করলো, যাকাত আদায় করলো, রমজান মাসে সিয়াম পালন করলো তার জন্য আল্লাহর ওপর সে বান্দার অধিকার হলো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া (বুখারী)। ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি রুকন হল সিয়াম। আর এ সিয়াম পালন করা হয় এ মাসেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন : হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার  (আল-বাকারাহ : ১৮৩)। রমযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। হাদীসে এসেছে ‘‘যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়  (মুসলিম)। আর এজন্যই এ মাসে মানুষ ধর্ম-কর্ম ও নেক আমলের দিকে অধিক তৎপর হয় এবং মসজিদের মুসল্লীদের ভিড় অধিকতর হয়। এ রমযান মাসের লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত অপরাপর এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সাওয়াব হয় এ মাসের ঐ এক রজনীর ইবাদতে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘কদরের একরাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ (জিরীল ) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- তা ফযর উদয় হওয়া পর্যন্ত থাকে।’’ (সূরা ক্বদর : ৪-৫)। নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে মূলতঃ সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।’’  পুরো রমজান মাস জুড়ে দোয়া কবুল হয়।  রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এ রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে যে দোয়াই করে থাকে-তা মঞ্জুর হয়ে যায়। এ মাসে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহে রমযানে প্রতিরাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া-মুনাজাত কবুল করা হয়ে থাকে। এ মাস জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ মাসের প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে আহবান করতে থাকে যে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথ চলা বন্ধ কর। (তুমি কি জানো ?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন (তিরমিযী)। এ মাস ক্ষমা লাভের মাস। এ মাস পাওয়ার পরও যারা তাদের আমলনামাকে পাপ-পঙ্কিলতা মুক্ত করতে পারলো না রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলেছেন, ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না (তিরমিযী)। রমযান মাসে সৎ কর্মের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোন একটি নফল ইবাদত করলো, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরয আদায় করলো। আর রমজানে যে ব্যক্তি একটি ফরয আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরয আদায় করলো। এ মাসে একটি উমরা করলে একটি হজ্ব আদায়ের সওয়াব হয় এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ্ব আদায়ের মর্যাদা রাখে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসে উমরা করা আমার সাথে হজ্ব আদায় করার সমতুল্য (বুখারী)।
এাহে রমজানে সিয়াম পালনের ফযিলত অগণিত। সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ নিজে যথার্থ পুরস্কার দেবেন। সিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ স্বয়ং সিয়ামের প্রতিদান দেবেন। হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের প্রতিটি ভাল কাজ নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, অতএব আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব  (বুখারী)। সিয়াম অতি উত্তম নেক আমল। আবু হুরাইরাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা, এর সমমর্যাদা সম্পন্ন কোন আমল নেই (নাসাঈ)।
অন্যান্য ইবাদত মানুষ দেখতে পায়। কিন্তু সিয়ামের মধ্যে তা নেই। লোক দেখানোর কোন আলামত সিয়াম পালনে থাকে না। শুধুই আল্লাহকে খুশী করার জন্য তা করা হয়। তাই এ ইবাদতের মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ ইখলাস। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘‘সিয়াম পালনকারী শুধুমাত্র আমাকে খুশী করার জন্যই পানাহার ও যৌন উপভোগ পরিহার করে।’’ জান্নাত লাভ সহজ হয়ে যাবে। সহীহ ইবনু হিববান কিতাবে আছে আবু উমামা রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যার কারণে আমি জান্নাতে যেতে পারি। তিনি বললেন, তুমি সিয়াম পালন কর। কেননা এর সমমর্যাদাসম্পন্ন কোন ইবাদাত নেই (নাসাঈ)।
সিয়াম পালনকারীকে বিনা হিসেবে প্রতিদান দেয়া হয়। অন্যান্য ইবাদতের প্রতিদান আল্লাহতায়ালা তার দয়ার বদৌলতে ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সিয়ামের প্রতিদান ও তার সাওয়াব এর চেয়েও বহু  গুণ দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া হবে। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, ‘‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে, কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব (মুসলিম)।
অর্থাৎ কি পরিমাণ প্রতিদান বাড়িয়ে দেয়া হবে তার কোন হিসাব নেই, শুধুমাত্র আলল্লাহই জানেন সিয়ামের পুণ্যের ভান্ডার কত সুবিশাল হবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সিয়াম ঢাল স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম ঢাল স্বরূপ। এ দ্বারা বান্দা তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পার এবং তা জাহান্নাম থেকে বাঁচার এক মজবুত দুর্গ।’’
যে ব্যক্তি একদিন আল্লাহর পথে সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তার কাছ থেকে জাহান্নামকে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেবেন (মুসলিম)।
ইফতারের মুহূর্তে আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়াটি রমজানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে (আহমাদ)। সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্কের চেয়েও উত্তম (সুগন্ধিতে পরিণত হয়)। (বুখারী ও মুসলিম)। সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে দু’টি বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত।একটি হল ইফতারের সময়, আর দ্বিতীয়টি হলো তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময় (বুখারী ও মুসলিম)।
সিয়াম কিয়ামাতের দিন সুপারিশ করবে। সিয়াম ও কুরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (আহমাদ)।
সিয়াম হল গুনাহের কাফফারা। আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই নেক আমল পাপরাশি দূর করে দেয়। (সূরা হুদ : ১১৪)। রসুল সা.বলেন, পরিবার পরিজন, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীদের নিয়ে জীবন চলার পথে যেসব গোনাহ মানুষের হয়ে যায় সালাত, সিয়াম ও দান খয়রাত সেসব গোনাহ মুছে ফেলে দেয় (বুখারী ও মুসলিম)। সিয়াম পালনকারীর এক রমজান থেকে পরবর্তী রমযানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া ছগীরা গোনাহগুলোকে মাফ করে দেয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি নিষিদ্ধ কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাক তাহলে তোমাদের ছগীরা গোনাহগুলোকে মুছে দেব এবং (জান্নাতে) তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব(সূরা নিসা : ৩১)। রাসূলুল্লালাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর মধ্যবর্তী সময় ও এক জুমা থেকে অপর জুমা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়া ছগীরা  গোনাহগুলোকে (উল্লেখিত ইবাদতের) কাফ্ফারাস্বরূপ মুছে দেয়া হয় সে যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে (মুসলিম)। রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব  গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে(বুখারী ও মুসলিম)। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের হেফাযতকারী। আর যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার জন্য নিবৃতকারী। (অর্থাৎ সিয়াম পালন যৌন প্রবৃত্তি নিবৃত করে রাখে)
সিয়াম পালনকারীরা রাইয়ান নামক মহিমান্নিত এক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়্যান। কেয়ামতের দিন শুধু সিয়াম পালনকারীরা ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায় ? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য। তারা প্রবেশ করার পর ঐ দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ  আর সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে ঢুকতে পারবে না। সিয়ামের বরকতময় সাওয়াব ও পুরস্কার হাসিলের জন্য শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য সিয়াম পালন করতে হবে। মনের মধ্যে লোক দেখানোর ইচ্ছা বা অপরকে শুনানোর কোন ক্ষুদ্র অনুভূতি থাকতে পারবে না। সিয়াম পালন, সাহরী, ইফতার ও তারাবিহসহ সকল ইবাদত রাসূলের সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত মত পালন করতে হবে। খাওয়া-দাওয়া ও যৌনাচার ত্যাগের মত মিথ্যা, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ, অশ¬ীলতা, ধোঁকাবাজি ও ঝগড়াবিবাদসহ সকল অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। চোখ, কান, জিহবা ও হাত পা সকল ইন্দ্রীয়কে অন্যায় কাজ থেকে হেফাযতে রাখতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না, তার রোজা রেখে শুধুমাত্র পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই (বুখারী)।
তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে সে যেন অশ¬ীল আচরণ ও গালমন্দ করা থেকে বিরত থাকে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার দিকে মারমুখী হয়ে আসে তবে সে যেন তাকে বলে ‘আমি রোজাদার’। (অর্থাৎ রোজা অবস্থায় আমি গালিগালাজ ও মারামারি করতে পারি না।)
রসুল সা. আরও বলেন, এমন অনেক রোজাদার আছে যার রোজা থেকে প্রাপ্তি হচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। তেমনি কিছু নামাযী আছে যাদের নামায কোন নামাযই হচ্ছে না। শুধু যেন রাত জাগছে। (অর্থাৎ সালাত আদায় ও সিয়াম পালন সুন্নাত মত না হওয়ার কারণে এবং মিথ্যা প্রতারণা ও পাপাচার ত্যাগ না করায় তাদের রোজা ও নামায কোনটাই কবুল হচ্ছে না) কাজেই ঈমান নষ্ট হয়ে যায় বা ঈমান থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যায় এমন সব পাপাচার থেকে বিরত থেকেই সিয়াম পালন করতে হবে।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

ঢাকা সময়

অনলাইন জরিপঃ

'সরকার প্রশাসন আর দুদককে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে' বললেন মির্জা ফখরুল। আপনি কি তাই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আহমাদ আলী
বার্তা প্রধানঃ রিদওয়ান আহমেদ
চীফ রিপোর্টারঃ মহিউদ্দিন আহমেদ
৮নং ডি.আই.টি এভিনিউ, মঞ্জুরী ভবন (৭ম তলা), মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০
মুঠোফোন : ০১৭১৭-১৮১৬৭২, ০১৭১৫-০৯৩৮৬৫, ফোন-ফ্যাক্স : ০২-৯৫৫৪১৭৩
ই-মেইল : ridwanahmed92@ymail.com