Published On: Fri, Aug 17th, 2012

পীরগঞ্জের কাদিরাবাদ বনবীটের জমি অবৈধ ভাবে জবর দখল

বিএফএন (পীরগঞ্জ,রংপুর) সংবাদদাতা : রংপুরের পীরগঞ্জে কাদিরাবাদ বনবীটের বাগানকৃত জমির গাছ কেটে মিলে মিশে জবর দখল করে ভোগ করছে এলাকার ভুমি দখল বাজরা। ৮১০ দশমিক ৪২ একর বনায়নকৃত জমির মধ্যে কত একর জমি বেদখল হয়েছে, বনবীট কর্মকর্তা তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।
বীট অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের কাদিরাবাদ বীটের আওতায় ১৮টি মৌজায় ৮১০ দশমিক ৪২ একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ বাগান থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা নেই। ওই বীটের বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ৩’শ একর বাগানকৃত জমিতে বাগান নেই। অবৈধ দখলদাররা ওই জমি দখল করে ঘরবাড়ি তৈরী, চাষাবাদ করাসহ ঈদগাহ্ মাঠ বানিয়েছে। অথচ বীট কর্তৃপক্ষ ৩/৪টি মামলা করেই খালাস।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ওই বীটের অধীনে মদনখালী মৌজায় প্রায় ১’শ একর জমি এলাকার কতিপয় ব্যক্তি মিলে-মিশে ভোগদখল করছে। প্রতি বছরই এ ভোগদখলীয় জমির পরিমান বাড়ছেই। এর মধ্যে মদনখালী গ্রামের সাবাত উল্লাহ্র পুত্র আঃ রশিদ মিয়া প্রায় ১০ একর, মহর উদ্দিনের পুত্র জহুরুল ইসলাম ২ একর, আজিজার রহমানের পুত্র বাবলু মিয়া ১ একর, মোকার হোসেনের পুত্র নুরুল মিয়া ১ একর, আমজাদ হোসেনের পুত্র শামীম মিয়া ১ একর এ রকম অনেক দখলবাজ বনের জমি দখল করে রোপনকৃত গাছ কেটে রাতারাতি আবাদি জমিতে পরিণত করেছে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে। ওইসব জমিতে স্যালোমেশিনে সেচ ও পাওয়ার টিলারে চাষ করে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। অপরদিকে বনের অনেক জমিতে ঘরবাড়ী তৈরী, ফলদ বাগান, পাট, আখ, কলা, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলাদির চাষ করা হয়েছে। খেতাবের পাড়া মৌজায় ২১ একর, বাবনপুরে ৭৮ একর, হাসার পাড়ায় ৭৯ দশমিক ৭৭ একর জমির বাগান কেটে অবৈধ দখল করার ঘটনা ঘটেছে। বাকী লক্ষীপুর, কোচারপাড়া, বড়ফলিয়া, পতœীচড়া, শ্যামদারেপাড়া, বাঁশপুকুরিয়া, তাঁতারপুর, জলামহল, পাটগ্রামে, কৈগাড়ী, উজিরপুর, ধাড়াকোল এবং ওমরপুর মৌজার চিত্রও তথৈবচ। হরনাথপুরে ২ একর বনের জমি কাগজে থাকলেও বাস্তবে আজও উদ্ধার হয়নি।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দখলদার বলেন, আমরা বীট কর্তৃপক্ষের সাথে মৌখিক চুক্তিতে জমিগুলো ভোগদখল করছি। অপরদিকে এলাকার সাধারণ মানুষ জানায়, বীটের জমিতে অবৈধ দখলদাররা জোটবদ্ধ। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। বনের মধ্যে ওইসব বাড়ীতে মাদক কারবারীদের আনাগোনা বেশী।
এ ব্যাপারে বীট কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, আমি ৮ মাস আগে যোগদান করেছি। নিয়ম অনুযায়ীু উল্লেখিত ১৮টি মৌজায় বাগান থাকার কথা। কিন্তু প্রতি বছরই অবৈধ দখল হওয়ায় বাগান কমে আসছে।  ইতোমধ্যেই আমি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ৪০/৫০ জনকে আসামী করে ৪টি মামলা করেছি। ওইসব মামলায় জমির পরিমান ১ একরের বেশী। কয়েকদিনের ব্যবধানে শুধু মদনখালী মৌজায় প্রায় ১৫ একর জমি বেদখলের ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা কোন মন্তব্য করেননি। তবে তিনি ওই মৌজার দেড়শ একর জমির মধ্যে ৭০ ভাগ জমি বনবীটের দখলে আছে বলে দাবী করেন। সেই সাথে তিনি হাসারপাড়ার প্রায় ৭৯ দশমিক ৭৭ একর, হরনাথপুরের ২ একর জমির পুরোটাই বেদখলে বলে জানান। আমি যোগদানের আগেই এগুলো হয়েছে। অবৈধ দখলদাররা প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে ২/৪ একর করে জমি দখল করে আসছে। কাদিরাবাদ বনবীটের কতটুকু জমি বেদখলে গেছে তা তিনি বলতে পারেননি। বলেছেন এর হিসেব নেই। এ ব্যাপারে মদনখালী ইউপির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মঞ্জু বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন দখলদারদের সংখ্যা বাড়ছে। কমছে বাগানের মুল্যবান গাছ-পালা। অপরদিকে বনের আওতাভুক্ত বড়আলমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ও চতরা ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু বনবীটের জমি বেদখলের বিষয়ে অভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

ঢাকা সময়

অনলাইন জরিপঃ

'সরকার প্রশাসন আর দুদককে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে' বললেন মির্জা ফখরুল। আপনি কি তাই মনে করেন?

View Results

Loading ... Loading ...

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আহমাদ আলী
বার্তা প্রধানঃ রিদওয়ান আহমেদ
চীফ রিপোর্টারঃ মহিউদ্দিন আহমেদ
৮নং ডি.আই.টি এভিনিউ, মঞ্জুরী ভবন (৭ম তলা), মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০
মুঠোফোন : ০১৭১৭-১৮১৬৭২, ০১৭১৫-০৯৩৮৬৫, ফোন-ফ্যাক্স : ০২-৯৫৫৪১৭৩
ই-মেইল : ridwanahmed92@ymail.com